কর্মেই আনন্দ -
কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা -
ষষ্ঠ শ্রেণি
| NCTB BOOK
550
এসো নিচের কয়েকটি ঘটনা পড়ি:
ঘটনা-১ সাথী কবিতা খুব ভালোবাসে। সে এবং তার সহপাঠীরা মিলে একটি দেওয়াল পত্রিকা তৈরির চিন্তা করল। এ ব্যাপারে প্রথমেই তারা তাদের শ্রেণিশিক্ষকের পরামর্শ নিল। শ্রেণিশিক্ষক তাদের চারপাশ থেকে পাওয়া সামগ্রী দিয়ে দেওয়াল পত্রিকা বানাবার জন্য বললেন। সাথে সাথে শিক্ষক মহোদয় এটাও বললেন যে দেওয়াল পত্রিকায় যেন সবার অংশগ্রহণ থাকে। তাই সাথী ও তার বন্ধুরা মিলে স্কুলের বাগানে পড়ে থাকা বাঁশ দিয়ে তৈরি করল দেওয়াল পত্রিকার ফ্রেম আর স্টোররুমে পড়ে থাকা চট দিয়ে দেওয়াল পত্রিকার জমিন। তারপর তারা সবাই মিলে বেশ কিছু কবিতা সংগ্রহ করে আটকে দিল চটের ওপর। এভাবে তারা তাদের দেওয়াল পত্রিকা তৈরি করল। তাদের এই কাজ দেখে সবাই খুব প্রশংসা করল। সবাই বলল, এটি দারুণ সৃজনশীল কাজ।
ঘটনা-২ রাইয়ানের কোনো জিনিসই ফেলে দিতে ইচ্ছে করে না। তার সব সময়ই মনে হয় যে আমরা বেসব জিনিস ফেলে দিই, সেসব জিনিস দিয়েও প্রয়োজনীয় ও সুন্দর অনেক জিনিস তৈরি করা যায়। তাতে অপচয় অনেক কম হয়। তাই রাইয়ান ফেলে দেওয়া জিনিস সংগ্রহ করে নানা রকম জিনিস বানাবার চেষ্টা করে। সে কোমল পানীয়ের ফেলে দেওয়া ক্যান আর নানা রকম রঙিন কাগজ দিয়ে ফুলদানি, কলমদানি ইত্যাদি তৈরি করেছে। এসব জিনিস সে নিজে যেমন ব্যবহার করে, তেমনি বন্ধুদেরকে উপহার হিসেবে দেয়। তার দেওয়া এসব উপহার বন্ধুরা অনেক পছন্দ করে। এসব ছাড়াও সে দড়ি ও কাপড় দিয়ে নানা রকম পুতুল, প্লাস্টিক বোতলের উপরের অংশ দিয়ে তেল ঢালার জন্য ফানেল/চোঙ, পুরানো কলম দিয়ে পেপারওয়েট, ছবির ফ্রেম ইত্যাদি তৈরি করেছে। সবাই বলে কাজের ক্ষেত্রে রাইয়ানের এই সৃজনশীলতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
ঘটনা-৩ নাফিসার আঁকার হাত অনেক ভালো। সে ছবি আঁকতেও খুব পছন্দ করে। সে তার চারপাশের নানা বস্তুর ছবি আঁকে। সে যেমন প্রকৃতির ছবি আঁকে, তেমনি আঁকতে পারে আলপনা। আত্মীয় কিংবা পাড়া-প্রতিবেশীদের বিয়ে কিংবা অন্য অনুষ্ঠানে নাফিসা আলপনা এঁকে দেয়। সবাই নাফিসার আঁকা নতুন ডিজাইনের আলপনা খুব পছন্দ করে এবং তার এ ধরনের সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করে। শুধু তাই নয়, নাফিসা তার নিজের ও তার বোনের জন্য পোশাকের নতুন ডিজাইনও করে থাকে। যেহেতু পোশাকের ঐ ডিজাইনগুলি নাফিসার নিজের করা, তাই তার পোশাক আর সবার চেয়ে আলাদা। গত বিজয় দিবসে নাফিসা মুক্তিযুদ্ধের ছবি এঁকেছিল, যা সে থানা শিক্ষা অফিসারকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। থানা শিক্ষা অফিসার নাফিসার আঁকা এই ছবির খুবই প্রশংসা করেছিলেন এবং বলেছিলেন- আমাদের সবার নাফিসার মতো সৃজনশীল হবার চেষ্টা করাই উচিত।
এখন বলতো দেখি, আমরা কোন কোন কাজের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে পারি?
কাজ আমরা প্রত্যেকে কী ধরনের সৃজনশীল কাজ করতে পারি তার একটি তালিকা (কাজের বর্ণনাসহ) তৈরি করি। অন্তত দুটি কাজ বর্ণনাসহ উপস্থাপন করি।